গাজায় হামলা, রাফাহ সীমান্ত খোলার আহ্বান
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ দিতে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ২১ হাজারের বেশি রোগী ও আহত ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনায় অন্তত দুজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের শুজাইয়া, তুফাহ ও জেইতুন এলাকাতেও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসার অপেক্ষায় হাজারো রোগী
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকাটিতে ২১ হাজার ৪৬৮ জন অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনির বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৩০ জনকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানোর প্রয়োজন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫৬ জন রোগী ও আহত ব্যক্তিকে গাজার বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৬১৪ জন রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিসরে গেছেন। বাকি ৪৪২ জন কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে গাজার বাইরে গেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসার অনুমতির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কয়েক ডজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবি
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গুরুতর অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিদের দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পারাপারে বিদ্যমান বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার এবং প্রতিদিন আরও বেশি রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
মিসরের সঙ্গে গাজার সংযোগকারী রাফাহ সীমান্তটি ফিলিস্তিনি রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে ক্যানসার, কিডনি রোগ, গুরুতর আঘাত ও জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে—এমন রোগীদের জন্য সীমান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সীমান্ত দিয়ে রোগী পারাপারের সুযোগ সীমিত থাকায় চিকিৎসার অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গাজার হাসপাতালগুলোতেও ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সংকটের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলার খবর
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও বিভিন্ন এলাকায় হামলা, গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজার মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাফাহ এলাকার আল-মাওয়াসিতেও একটি হামলায় ফিলিস্তিনি সরকারি অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের চার কর্মী নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি সীমান্ত খুলে দেওয়া, চিকিৎসার জন্য রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন।








