ব্রাজিলে লুলার ঐতিহাসিক জয়

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তাঁর পুনর্নির্বাচনের খবরে দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার সমর্থক। উল্লাস, স্লোগান, নাচ-গান আর ব্রাজিলের পতাকা হাতে নিয়ে বিজয় উদযাপনে মেতে ওঠেন তাঁরা।
‎
‎রোববার, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন লুলা। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট। এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন ৮০ বছর বয়সী এই নেতা।
‎
‎নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশটির বৃহত্তম শহর সাও পাওলোর বিখ্যাত পাউলিস্তা অ্যাভিনিউতে সমর্থকদের ঢল নামে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলগুলোতে জড়ো হয়ে তাঁরা লুলার পক্ষে স্লোগান দেন। অনেককে ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা ও লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টির লাল পতাকা হাতে উল্লাস করতে দেখা যায়। আতশবাজি, গাড়ির হর্ন আর আনন্দমুখর পরিবেশে চলে বিজয় উদযাপন।
‎
‎একই ধরনের উৎসবের দৃশ্য দেখা যায় রিও ডি জেনেইরোসহ ব্রাজিলের অন্যান্য শহরেও। কোথাও সমর্থকেরা রাস্তায় নাচ-গান করেন, কোথাও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করেন। লুলার জয়ে অনেক সমর্থক স্বস্তি ও আবেগের কথা জানান। তাঁদের কাছে এই ফলাফল গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
‎
‎প্রথম দফার নির্বাচনে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়া লুলার জন্য এই বিজয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং সমর্থকদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা তাঁর প্রচারণায় ভূমিকা রাখে।
‎
‎জয়ের পর লুলা সব ব্রাজিলীয় নাগরিকের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক বিভাজন কমানো এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‎
‎তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো ফল মেনে নেননি এবং নির্বাচন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে লুলার জয় উদযাপনের পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে।
‎
‎সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লুলার এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসা ও ব্যাপক উদযাপনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, এই জয় তাঁর সমর্থকদের কাছে কতটা আবেগ ও প্রত্যাশার বিষয় হয়ে উঠেছে।