নির্বাচনের আগে বিক্ষোভে উত্তাল ইসরায়েল

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির তেল আবিব শহরে আয়োজিত এ সমাবেশে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যর্থতার বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
‎
‎আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও তাঁর সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‎
‎বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন, জিম্মিদের পরিবারের সদস্য এবং হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে সংগঠনটি গঠিত। তাদের প্রধান দাবি, ওই হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তাব্যবস্থার কোথায় ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
‎
‎২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। হামলার আগাম সতর্কতা, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, এত বড় হামলা কীভাবে ঠেকানো যায়নি, তা জানতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা জরুরি।
‎
‎তবে নেতানিয়াহু সরকার এখন পর্যন্ত এ ধরনের স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে সম্মত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প একটি তদন্তব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সরকারি জোট ও বিরোধী পক্ষের আইনপ্রণেতারা সদস্য মনোনয়নে ভূমিকা রাখবেন। বিরোধী নেতাদের একাংশের আপত্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিশন তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারবে না।
‎
‎বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও স্বাধীন তদন্তের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন গাদি আইজেনকোটও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদেরও এতে অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
‎
‎নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের রাজনীতিতে এই বিক্ষোভ নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবে—এমন স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি।
‎
‎ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে নির্বাচনে কোনো জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
‎
‎এদিকে, বিক্ষোভের আয়োজকরা সমাবেশে বাধা সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে পুলিশের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তবে সরকারপন্থী কোনো পক্ষ বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে—এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ঠিক আগে তেল আবিবের এই সমাবেশ ইসরায়েলের রাজনীতিতে নিরাপত্তা ব্যর্থতা, সরকারের জবাবদিহি এবং স্বাধীন তদন্তের দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এই বিক্ষোভ নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ভোটের ফল এবং পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনা থেকেই দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।