সামরিক শক্তি বাড়াতে ‘বিপ্লবের’ ডাক কিমের
উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। সেনাবাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে আরও দক্ষ, শক্তিশালী ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে ‘সামরিক বিপ্লব’ জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডারদের দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনে বক্তব্য দেন কিম জং উন। এ সময় তিনি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি সেনা ইউনিটগুলোর প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
কিমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তার সামরিক বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও উন্নত করতে চায়। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে দায়িত্ব পালনে আরও দক্ষ করে তোলা এবং সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেতৃত্বের ভূমিকা জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কেসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নবম কংগ্রেসের পর সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডারদের নিয়ে এটিই ছিল প্রথম বড় সম্মেলন। সামরিক বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ সম্মেলন আয়োজন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় কংগ্রেসেও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছিলেন কিম জং উন। পাশাপাশি দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার সামরিক নীতি ও অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ দেশটির প্রতিরক্ষা নীতির ধারাবাহিকতার অংশ। তবে কিমের সর্বশেষ বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, উত্তর কোরিয়া অবিলম্বে কোনো নতুন সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
সব মিলিয়ে, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করে তুলতে কিম জং উনের নতুন আহ্বান উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রচেষ্টাকেই সামনে এনেছে। তবে এই উদ্যোগের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে দেশটির পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: রয়টার্স ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।








