ট্রাম্পের নতুন হামলার ইঙ্গিত, ইরানের হুঁশিয়ারি

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

‎

‎আল জাজিরার ২৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করতে পারে। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানে চালানো বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।

‎

‎ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা সামনে এলেও, নতুন হামলা শুরুর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে তিনি ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়ে দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটানো অথবা নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার বিকল্প নিয়ে ভাবছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎

‎অন্যদিকে, ইরানও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছে। দেশটির সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য, মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইরানের দাবি, তাদের সামরিক সক্ষমতা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে এগুলো ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য; যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

‎

‎হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

‎

‎এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।

‎

‎আল জাজিরার ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজ হামলা বা মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ ইরানের মাইনসংক্রান্ত দাবির বিরোধিতা করেছে।

‎

‎এই নৌপথ ঘিরে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার ২৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলারে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

‎

‎কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত

‎

‎সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও সংঘাত থামানোর চেষ্টা চলছে। শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা অংশ নেননি।

‎

‎বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেন, ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। তিনি সামরিক হস্তক্ষেপকে সমাধান হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন।

‎

‎বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়।

‎

‎কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?

‎

‎বিশ্লেষকদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও সরাসরি সামরিক হামলার পথে হাঁটবে, নাকি নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বজায় রাখবে? একই সঙ্গে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

‎

‎তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলাফল, দুই দেশের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে সংকটের পরবর্তী গতিপথ।

‎

‎সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনাই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

‎

‎সূত্র: আল জাজিরা, ২২ ও ২৪ অক্টোবর ২০২৬।

‎