যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে কূটনীতির আহ্বান ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে দুই দেশকে কূটনীতি ও আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
‎
‎শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।
‎
‎আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান বা হামলার পক্ষে নয়। তাঁর মতে, নতুন করে হামলা হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সংকটের সমাধানে কূটনীতি ও সংলাপের বিকল্প নেই।
‎
‎ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে এর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
‎
‎বৈঠকে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, শুধু সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
‎
‎আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা, সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গাজা পরিস্থিতি, ইয়েমেনের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়েও আলোচনা হয়।
‎
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‎
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো সংঘাতের বিস্তার রোধে সংযম প্রদর্শন এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তবে নতুন করে হামলা বন্ধে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
‎
সূত্র: আল জাজিরা।