সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, জানত না কনস্যুলেট

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ ও মামলার তথ্য জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে দেওয়া তালিকায় উল্লেখ ছিল। তবে ওই তালিকায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের কোনো তথ্য ছিল না। ফলে তালিকাটি পাওয়ার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে কী সাজা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে পারেনি বাংলাদেশি কনস্যুলেট।
‎
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ সাজা কার্যকর করা হয়।
‎
‎তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ সরকার বা জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
‎
‎প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে আটক বাংলাদেশিদের একটি তালিকা দেয়। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নামও ছিল। তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছিল।
‎
‎কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, একজনকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট এবং অন্যজনকে পরদিন ২ আগস্ট আটক করা হয়। তাঁরা সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎কিন্তু তালিকায় তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে, সে তথ্য ছিল না। ফলে তালিকার তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
‎
‎এদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার ঘটনার বিস্তারিত জানতে উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে দুই বাংলাদেশির মামলার নথি, আদালতের রায়ের অনুলিপি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ।
‎
‎বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়নি।
‎
‎জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এ ধরনের অভিযোগে এর আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড হওয়ার নজির কনস্যুলেটের জানা ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
‎
সূত্র: বিবিসি বাংলা