ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের
ভারতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের দুই ডজন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাস ধরে তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে এবং হাজারো মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকে আহত হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া বিক্ষোভ ও আটক-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা এবং লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ, জনসমাবেশের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বায়োমেট্রিক প্রযুক্তিসহ ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অন্যতম কারণ ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ফলে দরিদ্র, গৃহহীন ও মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছেন তাঁরা।
তবে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং দেশটির নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে আপিলের সুযোগও রয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নিয়োগপ্রাপ্ত এসব বিশেষজ্ঞ স্বাধীনভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা জাতিসংঘের কোনো রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী নন।
সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স, ২১ অক্টোবর ২০২৬








