পাকিস্তান-সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনের পথে তুরস্ক
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, চুক্তিটি পার্লামেন্টে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তিন দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পথে এগিয়েছে। তবে পার্লামেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো বাকি।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় তিন দেশের মধ্যে এ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, কোনো একটি সদস্যদেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দেশগুলোও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার অনুযায়ী সহায়তা করবে।
চুক্তিতে সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর তিন দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় হয়েছে। ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয় দেশ তিনটি। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব আইন অনুসরণ করতে হবে।
তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের পরও দেশটির সেনা বিদেশে মোতায়েনের জন্য পৃথক আইনি অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, চুক্তিটি আক্রমণাত্মক নয় এবং এর আওতায় অন্য দেশে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তুর্কি সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।
বিশ্লেষকদের কাছে এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। তবে চুক্তিটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং সংকটের সময় কোন দেশ কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।








