গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৭৫ ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ, সম্পন্ন জানাজা ও দাফন

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

‎ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকার পর তাঁদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

‎

‎রোববার, ১৮ অক্টোবর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির দারাজ এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে কয়েকশ মানুষ জানাজা ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো দেহাবশেষ নিয়ে শোকমিছিল বের করা হয়। পরে গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।

‎

‎আল-জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের বড় অংশ দারাজ এলাকার বিভিন্ন আবাসিক ভবন থেকে পাওয়া গেছে। এসব ভবন যুদ্ধের শুরুর দিকে হামলায় ধ্বংস হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে এমন মানুষও রয়েছেন, যাঁরা হামলার সময় নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। কয়েকটি পরিবারের একাধিক সদস্যের দেহাবশেষও উদ্ধার করা হয়েছে।

‎

‎স্বজনদের জন্য এই বিদায় ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা পরিবারের সদস্যদের পরিণতি জানতে অপেক্ষা করছিলেন অনেকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকায় তাঁদের দেহাবশেষ আগে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়ার পর শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ পান পরিবারের সদস্যরা।

‎

‎গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধারে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে অনেক স্থানে উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের দেহাবশেষ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

‎

‎প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় আরও প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব; তাঁদের সবার অবস্থান বা পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

‎

‎জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর তথ্য উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজায় প্রায় দুই লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

‎

‎২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনা সেই মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র সামনে আনছে।

‎

‎এ অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে প্রতিটি উদ্ধার অভিযান নতুন করে আশা ও শোক—দুই অনুভূতিই নিয়ে আসছে।

‎

‎গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের উদ্ধারে কত সময় লাগবে, তা এখনো অনিশ্চিত। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার-সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে বহু পরিবারের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

‎