1. live@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ : অগ্রগামী বাংলাদেশ
  2. info@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান, আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা সুপার এল নিনোর প্রভাবে ৬ মাসে ২ লাখ ৩৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প ‎ পুতিনের যুদ্ধ বন্ধে অব্যাহত চাপের আহ্বান জেলেনস্কির জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা পেজেশকিয়ানের, গুরুত্ব দিলেন কূটনীতিতে মায়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের কাদের মির্জা সহ স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজর এখন জাতিসংঘের ভাষণে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আর্কটিক নিরাপত্তা চুক্তি গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুই সামরিক ঘাঁটি গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, কোথায় হচ্ছে?

২৫ টাকার বিদ্যুৎ: চুক্তির শর্তে লুকিয়ে কি আসল হিসাব?

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট, ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট প্রায় ২৫ টাকা দরে কিনবে সরকার। ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াটের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীনের চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন—সিএমইসি। আগামী ২০২৮ সালের আগস্ট নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

‎কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—বর্জ্য থেকে উৎপাদিত এই বিদ্যুতের দাম এত বেশি কেন? আর ২৫ টাকার এই হিসাবের পেছনে আসলে কী আছে?

‎প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই দামের মূল কারণ চীনা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে—বিষয়টি এমন নয়। ২০২১ সালের চুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ দশমিক ৭৮ মার্কিন সেন্ট।

‎‎তখনকার বিনিময় হার অনুযায়ী এর সমপরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ টাকা ২৯৫ পয়সা। এখন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে যাওয়ায় একই ডলারভিত্তিক দর হিসাব করলে প্রতি ইউনিটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৫ টাকা।

‎অর্থাৎ, আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ২৫ টাকা মূলত নতুন কোনো ট্যারিফ নয়; বরং ডলারে নির্ধারিত পুরোনো চুক্তিমূল্যের বর্তমান টাকাভিত্তিক হিসাব।

‎চুক্তিটি ২৫ বছরের জন্য। প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সিএমইসি বিনিয়োগ করবে, আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জমি ও বর্জ্য সরবরাহ করবে।

‎তবে এখানেই শেষ নয়।

‎এই প্রকল্পকে শুধু বিদ্যুৎ কেনার হিসাব দিয়ে বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। কারণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ল্যান্ডফিলের ওপর চাপ কমানো এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন—এসব সুবিধাও প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। সরকারের পক্ষ থেকেও উচ্চ ট্যারিফের পক্ষে পরিবেশগত ও নগর ব্যবস্থাপনার সুবিধার কথা বলা হচ্ছে।

‎তবে অর্থনীতির প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—এক ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ২৫ টাকা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য কতটা যৌক্তিক?

‎তুলনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আসে ভারতের আদানি পাওয়ারের প্রসঙ্গ।

‎২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানির বিদ্যুতের জন্য গড়ে ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা প্রতি ইউনিট দিয়েছে। একই সময়ে ভারতের অন্য তিন সরবরাহকারীর বিদ্যুতের সম্মিলিত গড় দাম ছিল ৯ টাকা ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ আদানির বিদ্যুৎ অন্যান্য ভারতীয় সরবরাহকারীর তুলনায় প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি দামে এসেছে।

‎তবে আমিনবাজারের প্রকল্প আর আদানি পাওয়ারের প্রকল্প এক ধরনের নয়। আদানির বিদ্যুৎ কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আমদানি করা হচ্ছে, আর আমিনবাজারের প্রকল্পে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন যুক্ত। তাই শুধু প্রতি ইউনিটের দাম পাশাপাশি বসিয়ে দুই প্রকল্পের কার্যকারিতা নির্ধারণ করা যথেষ্ট নয়।

‎তারপরও প্রশ্ন থাকছে চুক্তির আর্থিক কাঠামো নিয়ে।

‎‎২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ডলারে নির্ধারিত ট্যারিফ থাকলে টাকার অবমূল্যায়নের পুরো প্রভাব বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে কি না, চুক্তিতে মূল্য পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ আছে কি না, প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেলে প্রকৃত ইউনিটপ্রতি খরচ কত দাঁড়াবে—এসব তথ্য জনসম্মুখে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

‎কারণ প্রকল্পটি যদি নির্ধারিত সক্ষমতায় না চলে, তাহলে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রকৃত ইউনিট খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রকাশিত কিছু বিশ্লেষণে সক্ষমতা কমে গেলে কার্যকর ইউনিটপ্রতি ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

‎আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বাংলাদেশের জন্য দরকষাকষির সুযোগ কতটা ছিল?

‎প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে সিএমইসি ২৩ সেন্টের মতো দাম চেয়েছিল এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ২১ সেন্টের কাছাকাছি দরের পক্ষে ছিল—এমন তথ্যও আগে প্রকাশিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২১ দশমিক ৭৮ সেন্টে চুক্তি হয়।

‎তাই এখন মূল প্রশ্ন শুধু ‘২৫ টাকা বেশি কি না’—তা নয়। মূল প্রশ্ন হলো, ২৫ বছরের এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত?

‎বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা, পরিবেশগত লাভ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েও চুক্তির পূর্ণ আর্থিক কাঠামো, ট্যারিফ সমন্বয়ের নিয়ম, উৎপাদন সক্ষমতার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রা ঝুঁকি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

‎কারণ বিদ্যুতের বিল শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করবে রাষ্ট্র—আর রাষ্ট্রের অর্থ মানেই জনগণের অর্থ। তাই ২৫ টাকার বিদ্যুতের আসল হিসাব শুধু প্রতি ইউনিটের দামে নয়; আসল হিসাব লুকিয়ে আছে ২৫ বছরের চুক্তির প্রতিটি শর্তে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট