
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যে মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করছে, তার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। এর আগে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের জলবায়ু বিষয়ক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন, জলবায়ু প্রযুক্তিতে সহজতর প্রবেশাধিকার এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অবদানও বৈঠকে আলোচনার অংশ ছিল। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি এ আলোচনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, অধিবেশনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন।
এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও বৈশ্বিক অগ্রাধিকার তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকও বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।