
শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে। তার ভারতে অবস্থান, প্রত্যর্পণের দাবি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই থমকে গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারত বিষয়টিকে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করছে। ফলে এ ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এর প্রভাব পড়ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও। বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে পারস্পরিক আস্থার প্রয়োজন। কিন্তু হাসিনা ইস্যুকে কেন্দ্র করে সেই আস্থার জায়গাতেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ।
তবে এই অচলাবস্থা কাটানোর সুযোগ এখনও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশকে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখতে হবে। একই সঙ্গে হাসিনা ইস্যুর বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
কারণ, একটি রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেলে ক্ষতি হবে দুই দেশেরই।
তাই অচলাবস্থা কাটানোর মূল চাবিকাঠি হতে পারে সংলাপ, পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি সম্মান এবং বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি। শেখ হাসিনা ইস্যুর সমাধান হয়তো সময়সাপেক্ষ, কিন্তু আলোচনার পথ খোলা রাখাই হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।