
হবিগঞ্জে লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট নিরসন এবং নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত তারা থানায় ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে তাদের আটক করা হয়।
আটক অন্য দুজন হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্য মির্জা সুমন ও রাকিব আহমেদ।
পুলিশ জানিয়েছে, মাহদী হাসানসহ আটক তিনজনকে রাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম এমন বক্তব্য দিয়ে গত জানুয়ারিতে আলোচনায় আসেন মাহদী হাসান। ওই বক্তব্যের পর পুলিশ তাকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়।
সোমবার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কর্মসূচি আয়োজনের সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা মাহদী হাসানসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করতে চাইলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার বলেন, আজকের কর্মসূচিটি ছিল স্থানীয় ছাত্র-জনতার। এতে আমরা একাত্মতা পোষণ করে এই আন্দোলনে শরিক হই। পুলিশ মাহদী হাসানকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ আমাদের আশ্বস্ত করেছে আটক সবাইকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু রাত ১টা পর্যন্ত ছাড়েনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে অংশ নিতে মাহদী হাসান, রাকিব আহমেদ ও মির্জা সুমন কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এ সময় মিছিলের প্রস্তুতিকালে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটকের খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে মাহদী হাসানের বাবা আবু তৈয়বসহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা হবিগঞ্জ সদর থানায় যান। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা থানা থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আটক করা হয়েছে। মাহদী হাসানসহ তিনজনের বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের মুক্তি না দেওয়ায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মাহদী হাসানসহ তিনজনের বিষয়ে পুলিশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও সহকর্মীরা।