
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ইতোমধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি করতে পেরেছে, তবে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে আরও সময় লাগবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেখা গেছে। গত ১৮০ দিনে সরকার যেসব কর্মসূচি শুরু ও বাস্তবায়ন করেছে, সেগুলোও প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দু-একটি সংকটময় পরিস্থিতিও সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহেশখালীতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণে জরিপ চলছে। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে দুটি এফএসআরইউ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ রয়েছে। এসব টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো সমস্যা হলে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশে গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমাতে অভ্যন্তরীণভাবে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে গ্যাসের সংকট সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলোও প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি এখনো প্রতিবেদনটি পড়েননি। তবে প্রতিবেদনে কিছু পর্যবেক্ষণ থাকার কথা শুনেছেন। প্রতিবেদন না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি যদি অনুমাননির্ভর হয়, তাহলে শুধু সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।