বহুতল ভবন ধস,ধ্বংসস্তূপের আটকে পড়ার আশঙ্কা ‎

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে শহরের ব্যস্ত ইস্টলেই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও রেড ক্রসের সদস্যরা।

‎

‎আল জাজিরা, রয়টার্স ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবনটির নিচতলা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেখানে ইলেকট্রনিকসের দোকান, একটি মাংসের দোকান ও মুদি দোকান ছিল। ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় সেখানে নির্মাণশ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অন্যান্য মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে।

‎

‎নাইরোবির ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা ইস্টলেইয়ে ভবনটি ধসে পড়ার পর চারদিকে কংক্রিটের বড় বড় খণ্ড ও নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তল্লাশি শুরু করেন। উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। তবে কংক্রিটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লোহার রড ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

‎

‎কেনিয়ার কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ভবনটির ওপরের ১০টিরও বেশি তলা নির্মাণাধীন ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভবনটির উচ্চতা নিয়ে কিছু পার্থক্য থাকলেও এটি একটি বহুতল নির্মাণাধীন ভবন ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

‎

‎দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কেনিয়া রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, আহত দুজনকে নাইরোবির কেনিয়াট্টা ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ২৬ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়। তবে ভবনের নিচতলার দোকানগুলোতে থাকা কয়েকজনের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত ছিল। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল সংশ্লিষ্ট দলগুলো।

‎

‎কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেনের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় নির্মাণস্থলে ৬৭ জন শ্রমিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন আহত হন এবং অন্যরা নিরাপদে বেরিয়ে আসেন বলে তিনি জানান। তবে ভবনের নিচতলার দোকানগুলোতে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ থাকায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

‎

‎নাইরোবির পুলিশপ্রধান ইসা মোহামুদ জানান, ভবন ধসের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করা হবে। ভবনটির নির্মাণকাজ, অনুমোদন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

‎

‎নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজা জানান, ভবনটির নির্মাণকাজের অনুমোদন থাকলেও সেখানে বসবাস বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দখল-সনদ ছিল না। নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় দোকান চালু থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

‎

‎উদ্ধারকাজ চলাকালে ভবনটির অবশিষ্ট অংশ পাশের ভবনের দিকে হেলে পড়ায় নতুন করে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভিড় করা মানুষদের সরিয়ে উদ্ধার অভিযানের পথ পরিষ্কার রাখারও চেষ্টা চালায় পুলিশ।

‎

‎এদিকে, এ দুর্ঘটনা কেনিয়ায় ভবন নির্মাণের নিরাপত্তা, নির্মাণকাজের তদারকি এবং অনুমোদনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে। দেশটির রাজধানীতে ভবন নির্মাণের মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে।

‎

‎কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি কী কারণে ধসে পড়েছে এবং এ ঘটনায় কারও অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

‎

‎সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্ভাব্য আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে তৎপর ছিলেন। নিখোঁজদের সবাইকে শনাক্ত করা এবং দুর্ঘটনায় হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের জন্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক হালনাগাদের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

‎

‎সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও কেনিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

‎