বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, বাড়তে পারে বৃষ্টি

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়াবিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‎
‎শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আবহাওয়াবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়াবিষয়ক পূর্বাভাসে সিস্টেমটির আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
‎
‎বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, অনুকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‎
‎ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৩ অক্টোবরের পূর্বাভাসেও লঘুচাপটি ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নিম্নচাপে এবং পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্য গতিপথ অনুযায়ী, এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
‎
‎এদিকে, সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে দেশের কোন কোন অঞ্চলে কতটা বৃষ্টি হবে, তা ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, শক্তি ও পরবর্তী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করবে।
‎
‎সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
‎
‎তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং ধান কাটার নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাসও পরিবর্তিত হতে পারে।
‎
‎তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস এবং ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৩ অক্টোবরের সামুদ্রিক আবহাওয়া বুলেটিন।