
ফাঁস হওয়া এফবিআইয়ের গোপন নথিতে উঠে এসেছে, লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ একাধিক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারি প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং অংশ নেওয়া দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) বিশ্বকাপজুড়ে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। সেই গোপন নথির একটি অংশ প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল।
বিশ্বকাপের মাঠে ছিল উত্তেজনা, গ্যালারিতে ছিল উন্মাদনা। তবে সেই আনন্দের আড়ালে টুর্নামেন্টজুড়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কাও ছিল।
বিশ্বকাপের আগে ও টুর্নামেন্ট চলাকালে ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ও তাঁর দুই সঙ্গী হাতে বানানো বোমা ও এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের পরিকল্পনায় পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার কথা ছিল। তবে মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি।
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের আগেও মেসিকে ঘিরে ছড়ায় বোমাতঙ্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তিনি স্টেডিয়ামে ঢুকে নিজের শরীরে বাঁধা বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেবেন। ম্যাচ চলার সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টারেও ফোন আসে—স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।
মেসির পাশাপাশি নিরাপত্তা শঙ্কায় ছিলেন পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর তাঁকে হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। টরন্টো ও মায়ামিতেও রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন দর্শকেরা।
মাঠের পারফরম্যান্স ও ভুলের কারণেও হুমকির মুখে পড়েন কয়েকজন ফুটবলার। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে বাদানুবাদের পর এমবাপ্পেকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় এবং প্যারাগুয়েতে তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়। সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর আতলেতিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার সরলথ ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পেনাল্টি মিসের পর কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজ বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি। ফ্রান্সের লুকাস দিনিয়েও হুমকি পেয়েছেন।
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া দল। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মাইওং-বোসহ পুরো দলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁদের বিমানবন্দর পর্যন্ত কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় নিয়ে যেতে হয়।
তবে হুমকির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। ভিএআর দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ফ্রান্সে তাঁদের বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তায় পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।