1. live@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ : অগ্রগামী বাংলাদেশ
  2. info@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান, আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা সুপার এল নিনোর প্রভাবে ৬ মাসে ২ লাখ ৩৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প ‎ পুতিনের যুদ্ধ বন্ধে অব্যাহত চাপের আহ্বান জেলেনস্কির জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা পেজেশকিয়ানের, গুরুত্ব দিলেন কূটনীতিতে মায়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের কাদের মির্জা সহ স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজর এখন জাতিসংঘের ভাষণে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আর্কটিক নিরাপত্তা চুক্তি গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুই সামরিক ঘাঁটি গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, কোথায় হচ্ছে?

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন কতটা সম্ভব? বদলে যাওয়া রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্তির দিনে, গত ৫ আগস্ট ভারত থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হলেও, রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে—দেশে ফিরলেও কি শেখ হাসিনা আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে পারবেন?

‎রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শারীরিকভাবে ফিরে আসা এবং পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বর্তমান রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও আইনি বাস্তবতায় তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনাকে আলাদাভাবে দেখতে হবে।

‎ডিসেম্বরের ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য

‎শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা যদি আক্ষরিক অর্থে নেওয়া হয়, তাহলে সেটি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বাধা। তবে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তাঁর বক্তব্যের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

‎দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য তাঁর এই বক্তব্যের মূল বার্তা হতে পারে—দলের নেতৃত্ব এখনো তাঁর হাতেই রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

‎অর্থাৎ, দেশে ফেরার ঘোষণা শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের বার্তা নয়; এটি দলীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি কৌশল হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

‎১৯৮১ সালের প্রত্যাবর্তন বনাম বর্তমান বাস্তবতা

‎শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ১৯৮১ সালে তাঁর দেশে ফিরে আসা।

‎১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যান। দীর্ঘ সময় পর ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।

‎সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

‎তিনি তখন কোনো রাষ্ট্রীয় পদে ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সরকার পরিচালনার রেকর্ডও ছিল না। ফলে আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাঁকে এমন একজন প্রতীকী নেতা হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল, যিনি দলকে পুনর্গঠিত করতে এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

‎কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।

‎দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিচয় এখন তাঁর শাসনামলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে ১৯৮১ সালের মতো নতুন রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ফিরে আসার সুযোগ তাঁর সামনে নেই।

‎২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বদলে দিয়েছে রাজনৈতিক বাস্তবতা

‎২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি এবং সরকারের পতন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

‎আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডের মামলায় অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

‎ফলে তিনি যদি ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরেন, তাহলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে।

‎এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

‎১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্বে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। বর্তমান বাস্তবতায় দেশে ফিরলে তাঁকে প্রথমেই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

‎তাই দেশে ফেরা মানেই রাজনৈতিক মঞ্চে সরাসরি প্রত্যাবর্তন—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‎ক্ষমতায় ফিরতে হলে শুধু দলের সমর্থন যথেষ্ট নয়

‎একজন রাজনৈতিক নেতা বা একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়লাভ করলেই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখতে পারে—এমন নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, নিরাপত্তা কাঠামো এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বিভিন্ন গোষ্ঠীর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

‎তুলনামূলক রাজনীতির গবেষণায় রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মিলান স্বোলিক দেখিয়েছেন, কর্তৃত্ববাদী শাসকদের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, দলীয় নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

‎এই গোষ্ঠীগুলো সাধারণত তখনই ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের সঙ্গে থাকে, যখন তারা মনে করে ক্ষমতাসীন পক্ষ ক্ষমতায় থাকার মতো শক্তিশালী।

‎কিন্তু যখন ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন একই গোষ্ঠীগুলো দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।

‎২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিশ্লেষণ করতে গেলে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

‎২০২৪ সালে কী বদলে গিয়েছিল?

‎গণঅভ্যুত্থানের শেষ পর্যায়ে শেখ হাসিনা সরকারের ওপর থেকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

‎এক পর্যায়ে সরকারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।

‎এর ফলে শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা হারাননি; একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামোও ভেঙে পড়ে।

‎রাজনীতিতে আনুগত্য অনেক সময় ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে। যখন কোনো নেতৃত্বকে অপরাজেয় মনে হয়, তখন তার সঙ্গে থাকা অনেকের কাছেই নিরাপদ মনে হয়। কিন্তু সেই নেতৃত্ব যখন ক্ষমতা হারায়, তখন আনুগত্য ধরে রাখার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রণোদনাও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

‎শেখ হাসিনার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই।

‎ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া আর বাংলাদেশ শাসন করা এক বিষয় নয়

‎শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের অবস্থান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।

‎বিদেশে অবস্থান করেও দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়া সম্ভব। দলীয় সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এমনকি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা করা সম্ভব।

‎কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য শুধু বক্তব্য যথেষ্ট নয়।

‎তাঁকে প্রয়োজন হবে একটি কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠন, নির্বাচনী কাঠামো, রাজনৈতিক মিত্র, জনসমর্থন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—এমন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা।

‎বর্তমানে এসব উপাদান একসঙ্গে শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে—এমন প্রমাণ খুব স্পষ্ট নয়।

‎আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কি শেখ হাসিনার সঙ্গে বাঁধা?

‎এখানে আওয়ামী লীগের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হলো—দলটি কি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাইরে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে পারবে?

‎রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে গবেষক স্যামুয়েল হান্টিংটন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে অভিযোজন ক্ষমতা, জটিলতা, স্বায়ত্তশাসন এবং অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

‎এই মানদণ্ডে কোনো রাজনৈতিক দল যদি দীর্ঘ সময় একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়, তাহলে সেই ব্যক্তির রাজনৈতিক পতনের পর দলের জন্য নতুন বাস্তবতায় মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

‎বারবারা গেডেস ও তাঁর সহগবেষকদের গবেষণাতেও ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার এমন দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

‎অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোতে এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি হয় না, যা নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরও দলকে কার্যকরভাবে ধরে রাখতে পারে।

‎ফলে নেতা ক্ষমতাচ্যুত হলে দলের সাংগঠনিক সংকটও গভীর হতে পারে।

‎তবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মৃত ভাবার কারণ নেই

‎শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি মানেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব শেষ—এমন সিদ্ধান্তও বাস্তবসম্মত নয়।

‎বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত বা কর্তৃত্ববাদী শাসকদের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক দল সময়ের ব্যবধানে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছে।

‎চিলির ইউডিআই, এল সালভাদরের আরেনা, তাইওয়ানের কুওমিনতাং এবং ইন্দোনেশিয়ার গোলকার—এ ধরনের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই আলোচিত হয়।

‎বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগের ভোটার, সমর্থক ও রাজনৈতিক ভিত্তির একটি অংশ ভবিষ্যতে সক্রিয় থাকতে পারে।

‎তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন একই বিষয় নয়।

‎দল নতুন নেতৃত্বে রাজনীতিতে ফিরতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে শেখ হাসিনাকেই আবার দলের নেতৃত্বে বা রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে হবে।

‎বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

‎শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করছে না। বর্তমান সরকার ও ভবিষ্যৎ সরকারের কর্মক্ষমতাও এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

‎রাজনীতিতে ভোটাররা শুধু অতীতের শাসনকে বিবেচনা করেন না; বর্তমান পরিস্থিতিও তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

‎যদি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে পারে এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে পারে, তাহলে আওয়ামী লীগের অতীতের প্রতি রাজনৈতিক নস্টালজিয়া তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।

‎অন্যদিকে সরকার যদি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা কিংবা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রতি এক ধরনের রাজনৈতিক সহানুভূতি বা নস্টালজিয়া তৈরি হতে পারে।

‎রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়।

‎আওয়ামী লীগের সব সমর্থককে অপরাধী হিসেবে দেখলে বিপরীত ফল হতে পারে

‎আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

‎কোনো দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার আইনগত বিচার হতে পারে। কিন্তু দলের প্রত্যেক ভোটার বা সমর্থককে একইভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।

‎বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলেই তার ভোটার বা সমর্থকগোষ্ঠী অদৃশ্য হয়ে যায় না।

‎তারা অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যেতে পারে, নতুন সংগঠন তৈরি করতে পারে কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকতে পারে।

‎তাই বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো—অতীতের অভিযোগ ও অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা, কিন্তু একই সঙ্গে সাধারণ রাজনৈতিক সমর্থকদের জন্য আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথও খোলা রাখা।

‎শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফিরতে চাইলে কী কী প্রয়োজন?

‎বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার জন্য একাধিক শর্ত একই সময়ে তাঁর পক্ষে যেতে হবে।

‎প্রথমত, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে।

‎দ্বিতীয়ত, দলের জন্য একটি কার্যকর রাজনৈতিক ও আইনি পথ তৈরি হতে হবে।

‎তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের নতুন বা পুরোনো নেতৃত্বের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য তৈরি করতে হবে।

‎চতুর্থত, দেশে তাদের উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন বজায় আছে কি না, তা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

‎পঞ্চমত, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বা সম্পন্ন হওয়া আইনি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ কী হয়, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‎এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, প্রশাসন, আদালত, রাজনৈতিক দল এবং জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শক্তিগুলোর অবস্থানও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

‎কোন বিষয়গুলো ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক?

‎শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বোঝার জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

‎আওয়ামী লীগের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা কি শেখ হাসিনার বাইরে স্বাধীন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন?

‎দলটি কি নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে?

‎আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার জন্য কোনো আইনি ও সাংগঠনিক পথ তৈরি হয় কি না?

‎দলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক বিধিনিষেধের ভবিষ্যৎ কী হয়?

‎শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়গুলোর বিরুদ্ধে আইনগতভাবে আপিল বা পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয় কি না?

‎২০২৪ সালের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক জোট ও শক্তিগুলো ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ থাকে, নাকি তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়?

‎দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়?

‎এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট করবে।

‎তাহলে কি শেখ হাসিনা আবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন?

‎সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসা এবং তাঁর আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরা—দুটি আলাদা সম্ভাবনা।

‎তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন—এমন সম্ভাবনা রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতায় বসার পথ অত্যন্ত কঠিন।

‎কারণ, তাঁকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করলেই হবে না; আইনি প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা, পরিবর্তিত রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য এবং জনমতের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

‎সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ১৯৮১ সালের শেখ হাসিনা এবং বর্তমান শেখ হাসিনা একই রাজনৈতিক অবস্থানে নেই।

‎১৯৮১ সালে তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক প্রতীক। ২০২৪ সালের পর তিনি হয়ে উঠেছেন একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনামলের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

‎তাই তাঁর ডিসেম্বরের দেশে ফেরার ঘোষণা যদি বাস্তব রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশও হয়ে থাকে, তবুও সেটিকে সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা পুনর্দখলের নিশ্চিত পরিকল্পনা হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

‎বরং এটি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নেতৃত্ব ধরে রাখার একটি রাজনৈতিক বার্তা—এমন ব্যাখ্যাই বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

‎শেষ কথা

‎বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎকে শুধু একজন ব্যক্তির ভবিষ্যৎ দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

‎শেখ হাসিনা হয়তো একদিন বাংলাদেশে ফিরবেন। আওয়ামী লীগও হয়তো কোনো এক সময় নতুন নেতৃত্ব, নতুন রাজনৈতিক কৌশল এবং নতুন পরিচয় নিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে।

‎কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় শেখ হাসিনার ব্যক্তিগতভাবে আবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

‎তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও দেখিয়েছে—রাজনীতিতে কোনো সম্ভাবনাকে চিরতরে অসম্ভব বলে ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

‎শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে শুধু তাঁর নিজের ঘোষণা নয়; বরং আদালতের সিদ্ধান্ত, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সরকারের কার্যকারিতা, জনমত, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার সম্মিলিত ফলাফল।

‎আর এখানেই আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

‎শেখ হাসিনা কি শুধু বাংলাদেশে ফিরবেন, নাকি আবারও বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন?

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট