
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিপুলসংখ্যক মামলা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিএনপির দাবি, বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে ঝুলে আছে।
এসব মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন দলের প্রায় ২২ লাখ নেতা-কর্মী। দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব মামলার কারণে নেতা-কর্মীদের নানা ধরনের আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা নিয়মিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করছেন।
বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও বিরোধী দলকে দমনের উদ্দেশ্যে অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। দলটির নেতারা এসব মামলাকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তৎকালীন সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের দমনে ব্যাপকভাবে মামলা দিয়েছিল। তার দাবি, এমনকি বিদেশে অবস্থানরত এবং মৃত ব্যক্তিদের নামেও মামলা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, এসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক মামলা এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছেন তারা।
বিএনপির মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সালাউদ্দিন খান জানান, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৬৫ লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো প্রায় ২৭ হাজার মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলায় বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ নেতা-কর্মী আসামি হিসেবে রয়েছেন।
সালাউদ্দিন খান আরও বলেন, মামলা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক হিসেবে দাবি করা এসব মামলা দ্রুত পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করা হয়েছে।