
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কয়েকটি মৃদু ভূমিকম্প এবং ভেনেজুয়েলার পর কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় বাংলাদেশেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,দেশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বিবেচনায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা অমূলক নয়। আর এমন একটি দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে রাজধানী ঢাকা।
শুধু ঢাকা নয়,দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও মাঝেমধ্যে মৃদু থেকে মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে,ভূমিকম্পের মাত্রা ও তীব্রতা দুটোই বেশি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ৬ থেকে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প রাজধানীতে আঘাত হানলে অসংখ্য ভবন ধসে পড়তে পারে,প্রাণহানি ঘটতে পারে ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের।পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলারে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্ভাব্য এই বিপর্যয়ের জন্য শুধু প্রাকৃতিক কারণ নয়,মানবসৃষ্ট কারণও অনেকাংশে দায়ী।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে নির্মিত দুর্বল ভবন,অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদারকির ঘাটতি ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৌশলবিদ্যায় বহুল প্রচলিত একটি কথা হলো ভূমিকম্প মানুষ মারে না, দুর্বল ভবনই মানুষকে মারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫টি ভূমিকম্প ঘটে। অন্যদিকে কম্প্রিহেনসিভ আর্থকোয়াক ক্যাটালগ (কমক্যাট) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডারের তথ্যে দেখা যায়, প্রতিবছর গড়ে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ১৫ থেকে ১৬টি বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
এসব তথ্যই প্রমাণ করে যে ভূমিকম্প পৃথিবীর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।