1. live@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ : অগ্রগামী বাংলাদেশ
  2. info@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইরানে অভিযানে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান, আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা সুপার এল নিনোর প্রভাবে ৬ মাসে ২ লাখ ৩৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প ‎ পুতিনের যুদ্ধ বন্ধে অব্যাহত চাপের আহ্বান জেলেনস্কির জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা পেজেশকিয়ানের, গুরুত্ব দিলেন কূটনীতিতে মায়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের কাদের মির্জা সহ স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজর এখন জাতিসংঘের ভাষণে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আর্কটিক নিরাপত্তা চুক্তি

‎ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেন সেরা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভঙ্গুর অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলার সংকট এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণ বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।

‎একজন বিশ্বজনীন ব্যক্তিত্ব হিসেবে কেন তিনি এই সংকটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান, তা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হলো।

‎আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সংকটে ত্রাণকর্তার ভূমিকামুহাম্মদ ইউনূসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর অতুলনীয় আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা।

বৈশ্বিক বিশ্বস্ততা: বিশ্বনেতা, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক
‎সম্পর্ক রয়েছে।

‎অর্থনৈতিক সহায়তা: স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের যে চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ (IMF) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) মতো দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দ্রুত ঋণ ও আর্থিক সহায়তা পেতে তাঁর ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

‎ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সমীকরণবিগত এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি একটি বিশেষ আঞ্চলিক শক্তির দিকে ঝুঁকে ছিল বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ড. ইউনূসের আগমন এই সমীকরণে একটি ভারসাম্য এনেছে।

‎ভারতের সাথে কৌশলগত যোগাযোগ: শুরুতে ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও, ড. ইউনূস অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে ভারতের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পারস্পরিক সম্মান এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতেই ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে যাবে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।

‎বহুমাত্রিক ভূ-রাজনীতি (Geopolitics of Neutrality) বাংলাদেশ বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারত তিনটি পক্ষই এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়।

‎চীন-যুক্তরাষ্ট্র ভারসাম্য: ড. ইউনূস কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে না পড়ে একটি নিরপেক্ষ এবং ভারসাম্যপূর্ণ নীতি বজায় রাখছেন। চীনের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব—উভয়কেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছেন।

‎রোহিঙ্গা সংকটের বৈশ্বিক সমাধান: ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে উপস্থাপন করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য এবং বিশ্বনেতাদের সাথে আলোচনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তার বিষয়টিকে পুনরায় বৈশ্বিক এজেন্ডার শীর্ষে নিয়ে এসেছে।

‎সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিকপুনর্গঠন ভূ-রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে হলে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। ড. ইউনূস বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন এবং অর্থনৈতিক খাতে যে কাঠামোগত সংস্কারের হাত দিয়েছেন, তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একটি দেশের আইনি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখে বিনিয়োগ করে। ড. ইউনূসের সংস্কার উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

‎গ্লোবাল সাউথ (Global South)-এর নেতৃত্বঅধ্যাপক ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনের মডেলে পরিণত হয়েছেন। গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে তিনি একজন আইকন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর এই বৈশ্বিক অবস্থান বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফোরামে (যেমন—জাতিসংঘ, জলবায়ু সম্মেলন বা কপ) নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

‎ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুহাম্মদ ইউনূস কেবল একজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান নন; বরং তিনি এই মুহূর্তে বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী ‘ব্র্যান্ড’। তাঁর বিশ্বস্ত ইমেজ এবং নিরপেক্ষ কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশকে পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ছক থেকে রক্ষা করে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট