
আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক স্থাপনা গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর একটি হবে দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলে, আর অন্যটি পূর্ব উপকূলে। যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এসব স্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক (Narsarsuaq) এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো একটি সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি Bluie West One পরিচালিত হতো। ১৯৫০-এর দশকে ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এলাকাটির জনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
অন্য স্থাপনাটি হবে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ (Mestersvig) এলাকায়। বর্তমানে সেখানে ডেনমার্কের Sirius Dog Sled Patrol-এর একটি সামরিক আউটপোস্ট রয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে মার্কিন বাহিনীর ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে সক্রিয় মার্কিন স্থাপনা হিসেবে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের Pituffik Space Base, যেখানে প্রায় ১৫০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর আটলান্টিক-আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো। চুক্তির আওতায় বিদ্যমান Pituffik Space Base-এর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি Narsarsuaq ও Mestersvig এলাকায় নতুন প্রতিরক্ষা স্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এই চুক্তির অর্থ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হয়ে যাচ্ছে—এমন নয়। গ্রিনল্যান্ড এখনও ডেনমার্কের রাজ্যের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। নতুন চুক্তি মূলত সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে।
আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব, উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তা এবং রাশিয়া ও চীনের কার্যক্রম নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও এই ইস্যুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।