1. live@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ : অগ্রগামী বাংলাদেশ
  2. info@www.agragamibangladesh.com : অগ্রগামী বাংলাদেশ :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইরানে অভিযানে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান, আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা সুপার এল নিনোর প্রভাবে ৬ মাসে ২ লাখ ৩৯ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প ‎ পুতিনের যুদ্ধ বন্ধে অব্যাহত চাপের আহ্বান জেলেনস্কির জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা পেজেশকিয়ানের, গুরুত্ব দিলেন কূটনীতিতে মায়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের কাদের মির্জা সহ স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক মামলা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নজর এখন জাতিসংঘের ভাষণে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আর্কটিক নিরাপত্তা চুক্তি

পৃথিবীর শেষ নয়, নাকি পুরোনো এক গাণিতিক পূর্বাভাস? ১৩ নভেম্বর ঘিরে নতুন প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই আসছে ১৩ নভেম্বর ২০২৬। আর এই তারিখকে ঘিরেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রায় ছয় দশক আগের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

‎১৯৬০ সালে প্রকাশিত সেই গবেষণায় মানুষের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে এমন একটি গাণিতিক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, যা আজকের দিনে এসে অনেকের কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎গবেষণাটি করেছিলেন বিজ্ঞানী হেইঞ্জ ফন ফোর্স্টার এবং তাঁর সহকর্মী প্যাট্রিসিয়া এম. মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ. অ্যামিওট। তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিজ্ঞান সাময়িকী Science-এ।

‎গবেষণাটির শিরোনাম ছিল—‘Doomsday: Friday, 13 November, A.D. 2026’। গবেষকদের ব্যবহৃত গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, মানুষের জনসংখ্যা অতীতের একই ধরনের দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকলে ১৩ নভেম্বর ২০২৬ নাগাদ জনসংখ্যা একটি গাণিতিক ‘অসীমতার’ দিকে চলে যাবে।

‎তবে এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এটিকে পৃথিবী ধ্বংসের নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

‎গবেষণাটি মূলত অতীতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির তথ্যকে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক মডেলে বসিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে দেখেছিল। সেই হিসাবেই ১৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখটি সামনে আসে।

‎পরবর্তী সময়ে এই পূর্বাভাসকে ‘Doomsday Equation’ বা ‘ডুমসডে সমীকরণ’ নামে পরিচিতি দেওয়া হয়।

‎তাহলে কি সত্যিই ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর শেষ?

‎বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, এমনটা বলার কোনো ভিত্তি নেই।

‎কারণ ১৯৬০ সালের সেই হিসাব যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতার ওপর নির্ভর করেছিল, বাস্তবে পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পরবর্তী কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

‎বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্ব জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও পরে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ক্রমেই নিম্নমুখী হয়েছে। ফলে ছয় দশক আগে যে প্রবণতাকে সামনে রেখে হিসাব করা হয়েছিল, বর্তমান বাস্তবতা তার সঙ্গে আর মেলে না।

‎এ কারণে ১৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখটি এখন মূলত একটি ঐতিহাসিক গাণিতিক পূর্বাভাসের আলোচিত তারিখ—পৃথিবীর নিশ্চিত সমাপ্তির দিন নয়।

‎বরং এই গবেষণার গুরুত্ব অন্য জায়গায়। এটি দেখায়, কোনো একটি সময়ের তথ্য ও প্রবণতাকে একই গতিতে ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে গেলে গাণিতিক মডেল কখনো কখনো অত্যন্ত নাটকীয় ফলাফল দেখাতে পারে।

‎কিন্তু বাস্তব পৃথিবীতে জনসংখ্যা, জন্মহার, মৃত্যুহার, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মানুষের সামাজিক আচরণ—সবকিছুই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

‎কেন আবার আলোচনায় ৬০ বছরের পুরোনো গবেষণা?

‎২০২৬ সালে এসে গবেষণাটির নির্ধারিত তারিখটি সামনে চলে আসায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এমনকি অস্ট্রিয়ার Complexity Science Hub ১২ ও ১৩ নভেম্বর ২০২৬-এ এই ‘Doomsday’ পূর্বাভাস নিয়ে একটি বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

‎সেখানে ১৯৬০ সালের পূর্বাভাসের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যাগত বাস্তবতার তুলনা এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা পরিবর্তনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

‎অর্থাৎ, বিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পৃথিবী ধ্বংস হবে কি না—শুধু তা নয়। বরং ছয় দশক আগে করা একটি গাণিতিক পূর্বাভাস বাস্তবতার সঙ্গে কতটা মিলেছে, কোথায় ভুল হয়েছে এবং জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে—সেটিই বড় প্রশ্ন।

‎সব মিলিয়ে, ১৩ নভেম্বর ২০২৬ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি ‘পৃথিবী ধ্বংসের দিন’ বা ‘মানবজাতির শেষ দিন’ ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ে, সেটিকে সরাসরি বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করার কারণ নেই।

‎প্রায় ৬৬ বছর আগে করা ওই গবেষণা ছিল নির্দিষ্ট কিছু জনসংখ্যাগত তথ্য ও গাণিতিক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি মডেল। বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তবতা সেই মডেলের ধারাবাহিকতার সঙ্গে মেলে না।

‎তাই ১৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখটি আতঙ্কের কারণ না হয়ে বরং একটি পুরোনো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসকে নতুন করে যাচাই করার সুযোগ হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

‎একই সঙ্গে এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়—ভবিষ্যৎ নিয়ে গাণিতিক মডেল গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনো মডেলের ফলাফলকে বাস্তব ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে গ্রহণ করার আগে তার অনুমান, সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমান তথ্য—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট