
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমনিতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পৃথিবী। এর মধ্যে শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পৃথিবী এখন জলবায়ুর এক অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার আশঙ্কাও রয়েছে।
এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের এক অঞ্চলে তীব্র খরা ও ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে হতে পারে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শক্তিশালী ঝড়। এতে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ইতোমধ্যে বাড়ছে। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা যুক্ত হলে বিভিন্ন দেশে চরম তাপমাত্রা ও বিপজ্জনক আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব এমন এক উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে, যার প্রভাব সামাল দিতে এখনই প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন দেশ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং সময়মতো সতর্কতা জারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কী এই এল নিনো?
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এ সময় মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
এর প্রভাবে কোথাও অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, খাদ্যের দাম, মানুষের স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের চলমান প্রভাবের সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হলে আগামী সময় বিশ্বকে আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।