
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই মিশরে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় এক দশক পর তাঁর এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার কায়রো পৌঁছালে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাকে স্বাগত জানান।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চীনসহ অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে কয়েকটি দেশ।
চীন ও মিশরের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিল্প, সবুজ জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ছে। পাশাপাশি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে।
মিশর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কায়রো চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও গভীর করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মিশর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
শি জিনপিংয়ের এই সফরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরান যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। চীন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেমন বদলে যাচ্ছে, তেমনি জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ফলে এমন সময়ে চীনা প্রেসিডেন্টের মিশর সফরকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে চীনের সক্রিয়তা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সার্বিকভাবে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো জোট ও সম্পর্কের সমীকরণ যখন নতুন করে সাজানো হচ্ছে, তখন শি জিনপিংয়ের মিশর সফর সেই পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতিতে চীনের ভূমিকা আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে