
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাগদাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বারবার অনুরোধ জানানোর পর ইরান বেশ কয়েকটি ইরাকি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।
শনিবার সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে যে, এই সপ্তাহে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের ইরাক সফরের সময় ইরাকি ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য বিশেষ অনুমতি পাওয়াটা ছিল বাগদাদের অন্যতম প্রধান একটি অনুরোধ।
ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি শনিবার বলেছেন যে, ইরান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরাকি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজের চলাচলের পথ সুগম করেছে এবং বাগদাদ ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে হরমুজ হয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা করেছে।
বাগদাদ ডায়ালগ’ নীতি-নির্ধারণী সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় আমিদি আরও বলেন, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করার বিষয়টি সরকার মেনে নেবে না। ইরাকি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরাকের ভেতর থেকে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে ইরাককে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে সবাই আগ্রহী, তিনি বলেন। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, এর প্রভাব আমাদের দেশের ওপর কঠোরভাবে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে আমিদি বলেন, এটি শুধুমাত্র ইরাক নয়, বরং পুরো বিশ্বকেই প্রভাবিত করে।
তিনি আরও জানান যে, ওই প্রণালী-সংক্রান্ত জটিল সমস্যা নিয়ে বাগদাদ ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক তৌহিদ আসাদি ওই প্রণালী-সংলগ্ন পরিস্থিতিকে এমন এক “অনিশ্চিত বা অপেক্ষমান অবস্থা (হোল্ডিং প্যাটার্ন) হিসেবে বর্ণনা করেন, যা লোকেবল ইরাক নয়, বরং সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আসাদি বলেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট, কারণ প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার উপায় খুঁজতে ইরান ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরান ভালো অগ্রগতির কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। আর স্বাভাবিকভাবেই—বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে এই প্রণালী বন্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক; কারণ ইরান বলে আসছে যে, নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালীটি বন্ধই থাকবে, তিনি যোগ করেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরাকি তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ বাগদাদ সর্বদাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদন: আল জাজিরা