ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফর, শান্তির মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে কি চীন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৪৫
বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ১৬ সেপ্টেম্বর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। ইরান-চীন এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে—চীন কি এবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারবে?
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরাগচির সফরে ওয়াং ইয়ের সঙ্গে আলোচনা হবে। এর আগে মে মাসেও বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছিল। চলমান সংকটের শুরু থেকেই চীন যুদ্ধ বন্ধ, উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
চীনের জন্য সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উদাহরণ হলো ২০২৩ সালের ইরান-সৌদি আরব সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় তেহরান ও রিয়াদ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। ওই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক প্রভাবকে নতুন মাত্রা দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের সামনে অবশ্য চ্যালেঞ্জও কম নয়। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও চীন গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ফলে বেইজিংকে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হবে, যাতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার পথ খোলা থাকে।
চীন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যেতে চায়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বেইজিং সংঘাতের অবসান, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে চীন কতটা কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই বেইজিংয়ের মাধ্যমে আলোচনায় বসতে কতটা আগ্রহী। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার জন্য চীন তেহরানের ওপর কতটা কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। আর তৃতীয়ত, ওয়াশিংটন চীনের মধ্যস্থতাকে কতটা গ্রহণ করবে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়ছে। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর ঘিরে নিরাপত্তা সংকট বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে চীনের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফরকে শুধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মাধ্যমে চীন আবারও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে নিজের কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।
তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে চীন সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠছে। বরং এই সফরকে আলোচনার পথ খোলা এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী দিনে আরাগচি-ওয়াং ই বৈঠকে কী আলোচনা হয় এবং চীন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেয়—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।