
যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
মঙ্গলবার দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস—ন্যাটসের (NATS) ফ্লাইট ডেটা প্রসেসিং সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে হিথ্রো, গ্যাটউইক, এডিনবার্গ, ম্যানচেস্টার ও স্ট্যানস্টেডসহ কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরে।
ন্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত, বাতিল কিংবা পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়ে। হিথ্রো বিমানবন্দরেও বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ কয়েকটি বড় এয়ারলাইনসের যাত্রীরা।
এদিকে, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক এয়ারলাইন রায়ানএয়ার জানিয়েছে, এই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ন্যাটসের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে এবং সংস্থাটির প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগ দাবি করেছে।
তবে ন্যাটস জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটিটি পরে সমাধান করা হয়েছে এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই ঘটনায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। তবে বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের জট কাটিয়ে স্বাভাবিক সূচিতে ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ন্যাটসের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাতে বড় ধরনের বিমান চলাচল বিপর্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার এমন সমস্যার পর যুক্তরাজ্যের আকাশপথের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।