
আগের সরকারের সময়ে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখছে বর্তমান সরকার। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বাতিল, সংশোধন কিংবা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
রোববার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বিপুলসংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পের বিপরীতে নেওয়া ঋণের দায় এখন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। ফলে সরকারের ওপর তৈরি হয়েছে বড় ধরনের আর্থিক চাপ।
তিনি জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পগুলো পৃথকভাবে মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কিছু প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আবার বেশ কিছু প্রকল্প এখনো পর্যালোচনার মধ্যবর্তী পর্যায়ে আছে।
প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনা করে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, সেগুলো বাতিল করলে অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় সেগুলো সম্পন্ন করার দিকে যেতে হচ্ছে সরকারকে।
সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি মৌলিক নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো—অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা।
আমির খসরুর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া অনেক প্রকল্পে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে জনগণের অর্থ ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন এমন প্রকল্পেই বিনিয়োগ করতে চায়, যেগুলোর পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই অথচ সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক দায় তৈরি করছে, সেসব প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার নীতিও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের দায়ের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে অনিয়মের অভিযোগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপকেও সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে জানান তিনি।
তবে সব ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন আমির খসরু। তার বক্তব্য, সরকারি অর্থের প্রতিটি বিনিয়োগে জনগণের জন্য বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অর্থাৎ, আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্প এখন সরকারের কঠোর পর্যালোচনার আওতায়—যেসব প্রকল্প প্রয়োজনীয় ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর, সেগুলো চলবে; আর অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করা প্রকল্পের ক্ষেত্রে নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত।