
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রতিনিধি।
মস্কোর ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ, যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ শান্তিচুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রতিনিধিরা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। তবে মার্কিন প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ভূখণ্ড এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
মস্কো সফরের পর মার্কিন প্রতিনিধিদের ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার পথ কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিন-মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক আলোচনায় যেসব বিষয়।
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোর ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রথমত, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাব।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রস্তাব নিয়ে মস্কোয় যান উইটকফ ও কুশনার। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
দ্বিতীয়ত, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ।
বৈঠকে পুতিন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
তৃতীয়ত, সাময়িক যুদ্ধবিরতি।
মার্কিন প্রতিনিধিদের সফর ও আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে রাশিয়া কিয়েভে তিন দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে ইউক্রেনও মস্কোতে হামলা না চালানোর ঘোষণা দেয়।
চতুর্থত, শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপ।
মস্কোর বৈঠকের পর উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের কাছে তুলে ধরে সমঝোতার সুযোগ খোঁজাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
পঞ্চমত, মূল মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা।
যুদ্ধ বন্ধের পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূখণ্ড ও ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভিন্ন অবস্থান। ফলে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোই হবে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে, পুতিনের সঙ্গে এই বৈঠককে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনার ফলাফল এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা কতটা সম্ভব হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।