
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সব সমুদ্র-মাইন সরিয়ে বা ধ্বংস করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এই দাবির পরও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বরং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সতর্কতায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা সব মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। কোনো মাইন ভেসে অন্য এলাকায় চলে গেলেও তা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও হরমুজের আশপাশে ভাসমান বা শনাক্ত না হওয়া মাইনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।
শুধু মাইন নয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাও জাহাজ চলাচলের অন্যতম বড় ঝুঁকি। জাহাজে হামলা, নজরদারি, হয়রানি কিংবা নতুন করে মাইন পাতা—যেকোনো ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
এদিকে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী নৌপথ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও স্থায়ী নৌকরিডর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। তাই মাইন অপসারণের মার্কিন দাবি সত্ত্বেও জাহাজ মালিক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর আস্থা পুরোপুরি ফিরে না আসা পর্যন্ত এই নৌপথকে সম্পূর্ণ নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।
সার্বিকভাবে, মাইন অপসারণ নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও হরমুজ প্রণালীকে সত্যিকার অর্থে ঝুঁকিমুক্ত করতে প্রয়োজন সামরিক উত্তেজনা কমানো, নতুন করে মাইন পাতা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা।