
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা—ডিআরডিওর তৈরি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি এখন যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কেন এত সংবেদনশীল একটি প্রযুক্তি বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দিচ্ছে নয়াদিল্লি?
ভারতের মূল লক্ষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো। এতদিন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা ছিল প্রধান। বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আরও বড় পরিসরে যুক্ত করলে উৎপাদনের গতি ও সক্ষমতা দুটোই বাড়বে বলে মনে করছে ভারত।
এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতি। দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমানো এবং ভারতকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো যুদ্ধকালীন সরবরাহ সক্ষমতা। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন হতে পারে। শুধু সরকারি কারখানার ওপর নির্ভর না করে একাধিক বেসরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখলে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। সংবেদনশীল প্রযুক্তি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে গেলে সাইবার হামলা, শিল্প-গুপ্তচরবৃত্তি কিংবা তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তবে এটিকে ভারতের সব ধরনের সামরিক গোপন তথ্য বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মূলত উৎপাদন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিআরডিও প্রযুক্তি নির্দিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সফল হলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শুধু দ্রুতই বাড়বে না, বরং দেশটির সামরিক প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানির সম্ভাবনাও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অর্থাৎ, ভারতের এই সিদ্ধান্তের মূল বার্তা একটাই—গোপন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয় গবেষণাকে বেসরকারি উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: