
ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে একের পর এক ড্রোন হামলার পর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। দেশটির যেসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত নয়, সেগুলো প্রয়োজনে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে রুশ সরকার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ-সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন। ডিক্রির আওতায় জ্বালানি, শিল্প, পরিবহন, যোগাযোগ ও লজিস্টিকসসহ জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক যদি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা থেকে কার্যকর সুরক্ষা দিতে না পারেন কিংবা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা দ্রুত পুনরুদ্ধার না করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট সম্পদে অস্থায়ী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ, আর্থিক সম্পদ এবং মালিকানাসংক্রান্ত অধিকারও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, শিল্প স্থাপনা ও বড় বড় লজিস্টিকস গুদামসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। এতে রাশিয়ার কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজোনের গুদামগুলোতে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক গুদাম পুনর্নির্মাণে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুতিন। অর্থাৎ, হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাশিয়ার বেসরকারি অবকাঠামোকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার প্রবণতা আরও জোরদার হচ্ছে।
তবে রাশিয়ার প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী দেনিস মান্তুরভ জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপকে সরাসরি জাতীয়করণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অবকাঠামো পরিচালনায় রাষ্ট্রের অস্থায়ী হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার যুদ্ধ-অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও লজিস্টিকস অবকাঠামোতে হামলা রাশিয়ার সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধের প্রভাবকে সামরিক স্থাপনার বাইরেও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দিকে আরও বিস্তৃত করছে।
ফলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় রাশিয়ার নতুন এই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত প্রভাব কতটা কমাতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।