
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাতে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
৩৫ আসামির বিরুদ্ধে চলছে বিচার
তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজামুখী ফ্লোটিলায় অভিযানের ঘটনাটি নিয়ে ইস্তাম্বুলের ১১তম হাই ক্রিমিনাল কোর্টে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। মামলার আসামিদের মধ্যে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তা আফেক মোসকোভিচও রয়েছেন।
বিচারমন্ত্রী গুরলেক জানান, গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোসকোভিচের বিরুদ্ধে তুরস্কের আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর তাদের আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত ও আটকের সম্ভাবনা তৈরি করতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল ফ্লোটিলায়?
মামলাটি মূলত গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার সময় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটক ও এর কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তুরস্কের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক সহায়তাকর্মীদের বহনকারী নৌযানে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং পরবর্তী আটকের ঘটনায় গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
তুরস্কের অভিযোগপত্রে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি বেআইনিভাবে স্বাধীনতা হরণ, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি, গুরুতর লুটপাট এবং পরিবহন ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগও রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
তুরস্কের এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহুর কার্যালয় তুরস্কের উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। ফলে গাজা যুদ্ধকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই থাকা তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রেড নোটিশ মানেই আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। তুরস্ক ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ চেয়েছে; ইন্টারপোল ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে—এমনটি বলা ঠিক নয়।
ইন্টারপোলের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেড নোটিশ হলো কোনো সদস্য দেশের অনুরোধে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে আটক করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো একটি সতর্কতামূলক অনুরোধ।
এটি নিজে কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা নয়। কোনো দেশ রেড নোটিশের ভিত্তিতে কাউকে আটক করবে কি না, তা সেই দেশের নিজস্ব আইনের ওপর নির্ভর করে।
সামনে কী হতে পারে?
তুরস্কের অনুরোধ এখন ইন্টারপোলের নিয়ম ও প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা হওয়ার কথা। অনুরোধটি গ্রহণ করে রেড নোটিশ প্রকাশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে ইন্টারপোলের সিদ্ধান্তই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রেড নোটিশ জারি হলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার বা কোনো দেশে প্রত্যর্পণের নিশ্চয়তা দেয় না।
তুরস্কের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহির প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিষয়গুলো এখানে তুরস্কের মামলায় আনা অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন দাবি করা হচ্ছে না। ইন্টারপোলও নিজস্বভাবে কারও অপরাধ প্রমাণ বা দোষী সাব্যস্ত করে না।
প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ডেস্ক