রাশিয়ার রাজস্বকে যুদ্ধের অর্থায়নের উৎস হিসেবে উল্লেখ করে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার আহ্বান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর অব্যাহত অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমাতে দেশটির রাজস্ব ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে চাপের মধ্যে রাখা প্রয়োজন।
ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত করে জেলেনস্কি বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখা জরুরি।
জেলেনস্কি দাবি করেন, চলতি বছর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া প্রায় ৬৩ হাজার বিভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, আসন্ন শীত মৌসুমে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রুশ হামলা আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়রা কঠিন শীতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেনও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতির বিষয়েও আলোচনা করেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করলে রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে কৃষ্ণসাগরে নৌপথ নিরাপদ রাখার বিষয়েও ইউক্রেন একটি সীমিত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এ বিষয়ে মিসর, ভারত ও তুরস্কের দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ।
অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, মস্কো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় আগ্রহী। তবে রাশিয়ার বক্তব্য হলো, শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি ইউক্রেন ও তার মিত্রদের নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ করে দিতে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জেলেনস্কির বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো ও কৃষ্ণসাগরের নৌপথ নিয়ে সীমিত যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত