ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার মধ্যেই শেষ হয়েছে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন। তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত প্রায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ক্ষমতাসীন ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ দল বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া প্রায় ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দলটি ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে।
এর ফলে পার্লামেন্টে দলটির সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে পাওয়া ৩৪৩টি আসনের রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে গেছে ইউনাইটেড রাশিয়া।
১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই ভোট শেষ হয় ২০ সেপ্টেম্বর। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি ছিল দেশটির প্রথম জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই নির্বাচনকে যুদ্ধ ও সরকারের নীতির প্রতি জনগণের সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
তবে ভোটের শেষ দিনটি ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। নির্বাচনের মধ্যেই মস্কো ও রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানায় রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সার্গেই সোবিয়ানিনের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী অভিমুখে আসা শত শত ড্রোন প্রতিহত করা হয়। মস্কোর একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন আঘাত হানে এবং সেখানে আগুন ও ধোঁয়ার ঘটনা ঘটে।
রুশ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মস্কো অঞ্চলে হামলায় কয়েকজন নিহত হন এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাশিয়া এই হামলাকে নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে ইউক্রেন এ হামলা নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, এবারের ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। কর্তৃপক্ষ ভোটকে সুষ্ঠু ও সফল বলে বর্ণনা করলেও রাশিয়ার বাইরে থাকা বিরোধী কর্মী ও সমালোচকেরা নির্বাচনের পরিবেশ এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণও ব্যাপকভাবে সীমিত ছিল।
ইউনাইটেড রাশিয়ার পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি। এছাড়া এলডিপিআর, নিউ পিপলস এবং জাস্ট রাশিয়া পার্টিও পার্লামেন্টে আসন পেয়েছে। এসব দল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইউনাইটেড রাশিয়ার সঙ্গে একই অবস্থান নেওয়ার নজির রয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরোধী হিসেবে পরিচিত ইয়াব্লোকো দল জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসন পায়নি। তবে নভগোরোদ অঞ্চলের আঞ্চলিক পার্লামেন্টে দলটি পাঁচ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে আসন পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রাশিয়ার ক্ষমতাসীন দল পার্লামেন্টে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে। নির্বাচনের ফলাফল মস্কোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত