ভারতে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমির ব্যবসা নিয়ে নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (SFIO) শাওমির ভারতীয় কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের সুপারিশ করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, SFIO-এর প্রস্তাবিত তদন্তে শাওমির বিদেশি বিনিয়োগ, অর্থের লেনদেন, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং ভারতের বিদেশি বিনিয়োগসংক্রান্ত আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে।
তদন্তের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে শাওমির ভারতীয় ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগের কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ। পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক হিসাব ও অডিট সংক্রান্ত নথিতে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হতে পারে।
২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার পর চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত সরকার বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এসব বিধি অনুসরণ করে শাওমি ভারতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করেছে কি না, সেটিও প্রস্তাবিত তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
এ ছাড়া ভারতের ই-কমার্স বাজারে শাওমির ব্যবসায়িক কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হতে পারে। বিশেষ করে অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শাওমির পণ্য বিক্রি ও বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থায় কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে এখনো শাওমির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি। SFIO-এর সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ভারতের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হতে পারে।
এদিকে শাওমি জানিয়েছে, তারা SFIO-এর কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা যোগাযোগ পায়নি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা দেশটির আইন ও বিধিবিধান মেনে চলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
তাই এই মুহূর্তে শাওমির বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বরং সম্ভাব্য আইনগত ও আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই বিস্তারিত তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত