ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে মলদোভার সঙ্গে সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে রুশ ড্রোন হামলায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্টারোকোজাচে সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় এই হামলা হয় বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলার পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার কারণে সীমান্ত দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সীমান্ত কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
ওদেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহত দুজনই বেসামরিক নাগরিক। আহত তিনজনকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত ক্রসিংটি মলদোভা সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে।
ইউক্রেনীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মলদোভা ও রোমানিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী একাধিক সীমান্ত ক্রসিংয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ধারণা, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও সরবরাহপথে চাপ সৃষ্টি করাই এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্ত ক্রসিংয়ে হামলার পাশাপাশি একই সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকাতেও রুশ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কিয়েভে হামলায় হতাহত ও বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা এবং দেশটির আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর আগে মলদোভার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনায় চিসিনাউ বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সীমান্ত ও বাণিজ্যিক যোগাযোগপথে হামলা বাড়তে থাকায় ইউক্রেনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত