রাজধানীর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন ঘিরেই মূলত এই আলোচনা।
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে ভোটার স্থানান্তর করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। একই সময়ে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হয়েছেন।
আসিফ মাহমুদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে নির্বাচন কমিশন তার আবেদন অনুমোদন করে। এর ফলে তিনি এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ভোটার।
অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
দুই নেতার একই সময়ে বিপরীতমুখী ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পরই প্রশ্ন উঠেছে—আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কি এনসিপি তাদের জন্য বড় কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা করছে?
দলীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটিতেই জয় চায় এনসিপি। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
আসিফ মাহমুদ এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার ছিলেন। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দক্ষিণ ঢাকার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উপস্থিতিও রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ওই নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচন করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পান। বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলে মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন পাটওয়ারী।
নির্বাচনের পর ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনা এবং শপথ স্থগিত রাখার আবেদনও করেছিলেন তিনি।
এখন ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ঘিরে এনসিপির সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
তবে ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে সরাসরি চূড়ান্ত মেয়র প্রার্থিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে তবেই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, শেষ পর্যন্ত যদি আসিফ মাহমুদ ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে রাজধানীর দুই সিটির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বের এই সম্ভাব্য দ্বিমুখী লড়াই ঢাকা শহরের নির্বাচনী মাঠে বাড়াতে পারে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
এখন সবার নজর—এনসিপি কবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে এবং ঢাকার দুই সিটিতে দলটির চূড়ান্ত নির্বাচনী কৌশল কী হয়।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত