রানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তাঁর এই মন্তব্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান পারমাণবিক সংকট আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
রোববার এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট বলেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমঝোতা শেষ পর্যন্ত নাও হতে পারে। চুক্তি না হলে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার পথেই যুক্তরাষ্ট্রকে এগোতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
রাইট বলেন, একটি চুক্তি হতে পারে—আবার নাও হতে পারে। এমনকি বিষয়টি ইরানের পরবর্তী সরকারের সময় পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখার ওপর জোর দিয়ে আসছে।
এর আগে চলতি বছরও ক্রিস রাইট বলেছিলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও দুই দেশের সম্পর্কের বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক চুক্তির সম্ভাবনা যদি আরও ক্ষীণ হয়ে যায় এবং সামরিক চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যতে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে কি না, কিংবা কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কঠোরই রয়েছে এবং একটি চুক্তির বদলে অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত