ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে খার্গ দ্বীপ থেকে প্রায় ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ছোট ইরানি তেল ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
তাসনিমের স্থানীয় প্রতিবেদকের বরাতে জানানো হয়েছে, ট্যাঙ্কারটির ওপর চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পর জাহাজটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এর নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল রপ্তানি কেন্দ্র। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপের তেল টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে দ্বীপটির আশপাশে যেকোনো সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
এদিকে, খার্গ দ্বীপের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের উৎস নিয়ে প্রাথমিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হলেও, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।
খার্গ দ্বীপের কাছে নতুন এই হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে হামলার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত