যুক্তরাষ্ট্রে কি সামনে অপেক্ষা করছে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ?
এমনই এক বিস্ময়কর পূর্বাভাস দিয়ে আলোচনায় এসেছেন চীনা-কানাডীয় শিক্ষাবিদ জিয়াং শুয়েচিন। অনলাইনে যিনি ‘চীনা নস্ট্রাদামুস’ নামে পরিচিত।
জিয়াংয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ হঠাৎ করে একটি বড় যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু নাও হতে পারে। বরং রাজনৈতিক সহিংসতা, বিক্ষোভ, দাঙ্গা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংঘাত ধীরে ধীরে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
জিয়াং আরও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন যদি আরও গভীর হয়, তাহলে ২০২৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তার বিশ্লেষণে, এ সময় রাজনৈতিক সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে জিয়াং শুয়েচিনের এসব বক্তব্যকে কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী বা বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো মূলত তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং অনুমান।
এরই মধ্যে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে জিয়াং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তার মতে, আগামী কয়েক দশকে দেশটি রাজনৈতিকভাবে আরও বিভক্ত হতে পারে এবং একপর্যায়ে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের জন্য এখন বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন কি সত্যিই ভবিষ্যতে এতটা ভয়াবহ রূপ নেবে?
নাকি ‘চীনা নস্ট্রাদামুসের’ এই পূর্বাভাসও শেষ পর্যন্ত থেকে যাবে শুধুই একটি আলোচিত ভবিষ্যৎ-কল্পনা হিসেবে? সময়ের সঙ্গে সেই উত্তরই মিলবে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত