দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ঝুঁকিতে রয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এর প্রভাবে আগামী তিন দিন দেশের সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী একদিন এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন দেখা দিতে পারে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও বেড়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে পানি স্থিতিশীল হয়ে তৃতীয় দিনে কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী একদিন এই অবস্থা বজায় থাকলেও পরবর্তী চার দিনে পানি বাড়তে পারে। তবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
এ ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েক দিনে দুধকুমারসহ কিছু নদীর পানি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সাময়িক প্লাবন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নদ-নদীর পানি ও স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত