রাশিয়া ও সিরিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত মিলেছে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক ফোনালাপে।
বুধবার, ২৬ আগস্ট রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে থাকা হমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস সামরিক স্থাপনার ভবিষ্যৎ। ৯ আগস্ট মস্কো ও দামেস্ক এসব স্থাপনায় রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি পুনর্গঠনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছেছিল।
প্রায় ১৮ মাসের আলোচনার পর হওয়া ওই সমঝোতাকে দুই দেশ তাদের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার একটি নতুন কাঠামো হিসেবে দেখছে।
নতুন ব্যবস্থায় হমেইমিম ও তারতুসের সামরিক স্থাপনাগুলোকে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যবস্থাপনায় সিরিয়ার ভূমিকা বাড়ানোর কথা রয়েছে।
ফলে সিরিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরিবর্তে নতুন কাঠামোয় পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ফোনালাপে পুতিন সিরিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি রাশিয়ার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী ইসরায়েলি হামলারও বিরোধিতা করেছে মস্কো।
এদিকে দুই নেতা রাজনৈতিক সংলাপ আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি, মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মস্কো একদিকে তার দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বার্থ ও ভূমধ্যসাগরীয় উপস্থিতি ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে দামেস্কও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহযোগিতার পথ খুঁজছে।
সব মিলিয়ে, পুতিন ও আল-শারার এই আলোচনা শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং সিরিয়ায় রাশিয়ার ভবিষ্যৎ সামরিক ও কৌশলগত ভূমিকা কী হবে—সেই প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত