নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের ঘটনায় ওই ছাত্রী বর্তমানে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বর্তমানে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, গত ১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারেন।
এরপর ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি বকুল মিয়া এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অভিযুক্ত বকুল মিয়া কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ না করাই আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী জরুরি।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত