আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি সাময়িক কোনো ঘটনা নয়; বরং বর্তমান উচ্চমূল্যই ভবিষ্যতে তেলের বাজারের নতুন ‘ফ্লোর প্রাইস’ বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমা হয়ে উঠতে পারে। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে Reuters-এর Breakingviews-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে Brent crude-এর দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারের আশপাশে রয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক তেলের মজুত কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হওয়ায় এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে তেলের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি। ফলে হঠাৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজার সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
Breakingviews-এর বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে Brent crude-এর দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। আর যদি বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও সরবরাহ-সংক্রান্ত ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে প্রায় ৯২ ডলারের বর্তমান মূল্যস্তরই ভবিষ্যতে বাজারের একটি নতুন নিম্নসীমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বাড়তে পারে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়, তীব্র হতে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক তেলবাজারে এখন শুধু দাম কতটা বাড়ছে—সেটিই নয়, বরং দাম কতটা নিচে নামতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরবরাহ ঝুঁকি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বর্তমান উচ্চমূল্যই যে তেলের বাজারে নতুন ‘ফ্লোর’ তৈরি করতে পারে, সেই সম্ভাবনাই সামনে আনছে Breakingviews-এর বিশ্লেষণ।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত