সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে ‘অধিকৃত’ বলে দেওয়া নিজের মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তিনি স্পষ্ট করেছেন, গোলান মালভূমি নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যারাক বলেছিলেন, ইসরায়েল এখনো গোলান মালভূমি দখল করে রেখেছে এবং এ অবস্থান জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর এই বক্তব্য ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্যারাক তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, তাঁর মন্তব্য ছিল গোলান মালভূমির ঐতিহাসিক অবস্থার বর্ণনা, জাতিসংঘের অবস্থানের প্রতি সমর্থন নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিয়ে যে নীতি নির্ধারণ করেছিল, সেটিই এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নীতি।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। তবে জাতিসংঘ ও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের এই সংযুক্তিকরণকে স্বীকৃতি দেয় না।
২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়। টম ব্যারাকের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যায় সেই মার্কিন অবস্থান বহাল থাকার বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারাকের প্রথম মন্তব্য এবং পরবর্তী প্রত্যাহার গোলান মালভূমি ইস্যুটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাকেই তুলে ধরেছে। একই সময়ে সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে নজর পড়ছে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত