ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাতভর রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন। হামলায় আবাসিক ভবন ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি শিশু হাসপাতাল ও একটি স্কুলেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের এই ‘ব্যাপক হামলায়’ কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কিয়েভ অঞ্চলের ব্রোভারি জেলায় হামলায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো। রাতজুড়ে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রুশ হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাতেই কয়েক হাজার বাড়ি ও স্থাপনা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ গ্রিড মেরামতে কাজ করছেন প্রযুক্তিবিদরা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিয়েভে ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি কারখানা এবং একটি গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে হামলার সময় একটি ড্রোন ইউক্রেন সীমান্ত পেরিয়ে রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গালাতি শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। পরে সেটি জনবসতিহীন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়ে ছোট একটি আগুনের সৃষ্টি করে। তবে এতে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
রাশিয়ার হামলার পর নিজেদের আকাশসীমা রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক বিমান অভিযান’ শুরু করার কথা জানিয়েছে পোল্যান্ডও।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রায় প্রতি রাতেই রুশ হামলার মুখে পড়ছে কিয়েভ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, গত এক সপ্তাহে দেশটির এক ডজনের বেশি অঞ্চলে রাশিয়া ১ হাজার ৫৫০টির বেশি আক্রমণকারী ড্রোন, ১ হাজার ৫৬০টি গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলাও জোরদার করেছে ইউক্রেন। সম্প্রতি প্রায় ৬০০ ড্রোন দিয়ে মস্কোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রাশিয়ায় দুটি পৃথক হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, জুলাই থেকে রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন গুদামে বারবার হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় ১০টি লজিস্টিক সেন্টারের সাতটি ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।
রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনায় চাপ দেওয়াও এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও পরস্পরের বিরুদ্ধে করে আসছে মস্কো ও কিয়েভ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার বড় অংশ দেশটির পূর্বাঞ্চলে।
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত