সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচির একজন প্রাক্তন উপদেষ্টা মঙ্গলবার দোষ স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি সরকারি নথিপত্র সংক্রান্ত আইন এড়াতে এবং গবেষণা অনুদান ও কোভিড-১৯ মহামারী বিষয়ক সরকারি নথিপত্র গোপন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
মহামারী চলাকালীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস-এ ফাউচির অধীনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ডেভিড মোরেন্স মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টের একটি ফেডারেল আদালতে শুনানিকালে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ৭৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত এপ্রিলে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।
সরকারি কৌঁসুলিদের মতে, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কোভিড-১৯ গবেষণা অনুদান সংক্রান্ত 'পাবলিক রেকর্ড' বা সরকারি নথিপত্র পাওয়ার আবেদনগুলো নস্যাৎ করার একটি পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন। আগামী ১২ নভেম্বর তাঁর সাজা ঘোষণার সময় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তাঁর আইনজীবী টিমোথি বেলেভেৎজ এক বিবৃতিতে বলেন, আজ দোষ স্বীকার করার মাধ্যমে ড. মোরেন্স তাঁর কৃতকর্মের দায়ভার গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবেন। ফাউচি যিনি ৩৮ বছর ধরে এনআইএআইডি (NIAID)-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মহামারী মোকাবিলার প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন গত মাসে সিনেটের একটি প্যানেলের সামনে হাজির হয়েছিলেন।
সেখানে তিনি বারবার নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দেওয়ার অধিকার (right against self-incrimination) প্রয়োগ করেন এবং কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পলের যিনি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ বিরুদ্ধে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর লক্ষ্যে একটি অসংলগ্ন বা উন্মাদনাপূর্ণ প্রচারণার অভিযোগ আনেন। এরপরই মোরেন্সের এই দোষ স্বীকারের বিষয়টি সামনে এল।
কোভিড-এর উৎপত্তিস্থল বা উৎস নিয়ে রহস্যের এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। ২০২৩ সালে এফবিআই (FBI) জানিয়েছিল যে, সম্ভবত উহান-এর কোনো গবেষণাগার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার ফলেই এই মহামারির সৃষ্টি হয়েছিল, তবে চীন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, মোরেন্স-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়টি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ (NIH)-এর একটি গবেষণার অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্তের সাথে সম্পর্কিত। উহান এর গবেষণাগার থেকে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বাদুড়ের করোনাভাইরাস বিষয়ক ওই অনুদানটি বাতিল করা হয়েছিল।
মূল অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চীন-ভিত্তিক ওই গবেষণাগারটি একটি উপ-অনুদান (sub-award) পেয়েছিল। কৌঁসুলিদের ভাষ্যমতে, মোরেন্স বাদুড়ের করোনাভাইরাস বিষয়ক সেই অনুদানটি পুনর্বহালের ব্যাপারে সহায়তা করার এবং গবেষণাগার থেকে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার যে ধারণা বা বয়ান প্রচলিত ছিল, তা খণ্ডন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সরকারি কৌঁসুলিরা আরও জানান, ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্ট'-এর আওতায় তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ বা বার্তাগুলো তলব করা হতে পারে এমন আশঙ্কায় মোরেন্স ও অন্যরা সরকারি ইমেইল অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে মোরেন্স-এর ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জানায়, ল্যাব থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, এমন তত্ত্বে তাদের আস্থা খুবই কম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আরও চারটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের বিশ্বাস, কোনও প্রাণী থেকে প্রাকৃতিকভাবে সংক্রমণের মাধ্যমেই এই ভাইরাসটির আবির্ভাব ঘটার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
রয়টার্স
অগ্রগামী বাংলাদেশ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত